| বঙ্গাব্দ

ইরান পরমাণু স্থাপনায় হামলা: ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা রাশিয়ার, কূটনীতিতে ফেরার আহ্বান ও এনপিটি চুক্তি লঙ্ঘন | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 29-11-2025 ইং
  • 3800176 বার পঠিত
ইরান পরমাণু স্থাপনায় হামলা: ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা রাশিয়ার, কূটনীতিতে ফেরার আহ্বান ও এনপিটি চুক্তি লঙ্ঘন | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: ইরান পরমাণু স্থাপনায় হামলা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: পরমাণু স্থাপনায় হামলার নিন্দা রাশিয়ার, কূটনীতিতে ফেরার আহ্বান

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের গত জুন মাসের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কো দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথেই তারা অটল রয়েছে। এই সামরিক আগ্রাসন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অ-বিস্তার (Nuclear Non-Proliferation) ব্যবস্থাকে গভীর সংকটে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করে রাশিয়া।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর, ২০২৫) মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এই হামলার তীব্র সমালোচনা করেন।

রুশ সতর্কতা: সামরিক হামলা 'অগ্রহণযোগ্য'

মারিয়া জাখারোভা ঘোষণা দেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে পাওয়াকেই রাশিয়া দৃঢ়ভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। সম্প্রতি রুশ ও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপেও এই আলোচনা স্থান পায়।

রুশ এই মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন,

"পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে এমন ‘সামরিক পদক্ষেপ’র ঝুঁকি নিয়ে রাশিয়া বারবার সতর্ক করেছে।"

তিনি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর তত্ত্বাবধানে থাকা যেকোনো পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলাকে 'অগ্রহণযোগ্য' হিসেবে আখ্যা দেন।

জাখারোভার মতে, আত্মরক্ষার দাবি তুলে যুক্তরাষ্ট্র যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলা চালিয়েছে, তা শুধু আন্তর্জাতিক অ-বিস্তার ব্যবস্থাকে গভীর সংকটে ঠেলে দেয়নি, বরং পরমাণু অস্ত্র নিয়ে করা এনপিটি (NPT) চুক্তির নীতিমালাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

তেহরানের অগ্রাধিকার ও নিশ্চয়তার দাবি

রুশ এই কূটনীতিক আরও বলেন, কিছু বিদেশি পক্ষ ইরানের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলেও তেহরান এখনো সংলাপকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইরান মনে করে, পারস্পরিক উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে সমান মর্যাদার আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতেই জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

জাখারোভা উল্লেখ করেন, আলোচনা পুনরায় শুরু করতে হলে ইরানকে অবশ্যই ‘গুরুতর নিশ্চয়তা’ পেতে হবে যে তাদের পরমাণু স্থাপনাগুলো আর কখনো ক্ষেপণাস্ত্র বা বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে না। তিনি পশ্চিমা দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হুমকির ভাষা বাদ দিয়ে ইরানের সঙ্গে আবারও কূটনীতির পথে ফেরার আহ্বান জানান।

🇧🇩 পরাশক্তির চাপ ও কূটনীতির সংগ্রাম: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট (১৯৫০-২০২৫)

ইরানের পারমাণবিক ইস্যুটি বিশ্বজুড়ে পরাশক্তির চাপ এবং ছোট বা মাঝারি রাষ্ট্রগুলোর কূটনীতির সংগ্রামকে তুলে ধরে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে পরাশক্তির হস্তক্ষেপের স্মৃতি জাগায়।

  • ১৯৫০-১৯৭১: পরাশক্তির নির্ভরতা: বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) দেশটি সামরিক এবং অর্থনৈতিকভাবে পরাশক্তির ভূ-রাজনৈতিক খেলার শিকার ছিল। সে সময় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ছিল আঞ্চলিক পরাশক্তির (যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন) ছায়ায় নির্ভরশীল।

  • ১৯৭৫: আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের প্রভাব: ১৯৭৫ সালের পর দেশের রাজনীতিতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের ছায়া আরও দীর্ঘ হয়। পরাশক্তিগুলোর স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময় জাতীয় স্বার্থ ও কূটনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • ২০০০-এর দশক: সামরিকীকরণ ও এনপিটি: ২০০০ সালের পর থেকে বাংলাদেশ এনপিটি চুক্তির প্রতি অনুগত থেকে এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তির তত্ত্বাবধানে তার পারমাণবিক বিদ্যুতের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। ইরানকে সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু করার রুশ নিন্দা, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও অ-বিস্তার ব্যবস্থার সুরক্ষার গুরুত্বকেই তুলে ধরে।

  • ২০২৫: কূটনৈতিক ভারসাম্য: ২০২৫ সালের বর্তমান পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ সরকার প্রায়শই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় শক্তিগুলোর সামরিক হুমকি বা নিষেধাজ্ঞার মুখে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করেছে। ইরানের মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, সামরিক হুমকির পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে 'সমান মর্যাদার' জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা যেকোনো রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।

রাশিয়ার এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং শক্তির ভারসাম্যের প্রেক্ষাপটে সামরিক আগ্রাসনের ঝুঁকিকে মোকাবিলা করার গুরুত্বকে পুনর্বার স্মরণ করিয়ে দেয়।


সূত্র:

  1. রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভার সংবাদ সম্মেলন (২৮ নভেম্বর, ২০২৫)

  2. রুশ সংবাদ সংস্থা তাস এবং মেহের নিউজ এজেন্সি

  3. গুগল অনুসন্ধান থেকে প্রাপ্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সামরিক কূটনীতির ইতিহাস বিশ্লেষণ (১৯৫০-২০২৫)

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency